Published : 16 Apr 2026, 11:06 PM
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের মধ্যে অংশ নিয়েছিলেন মো. মারুফ আল হাসান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর ডান হাতের কবজিতে একটি গুলি লাগে। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তিনি ২৫তম সাক্ষী হিসেবে এই বিষয়ে জবানবন্দি দেন। এই ঘটনাটি ছিল আওয়ামী লীগের (নিষিদ্ধ) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অংশ। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। বর্তমানে তাঁরা সবাই পলাতক।
মারুফ জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি লেখাপড়া শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন এবং একইসাথে একটি ছোট ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজশাহীর তালাইমারী মোড়ে সকাল ১০টার দিকে তাঁরা বিক্ষোভের জন্য একত্রিত হন। বেলা ১টার দিকে যখন মিছিলটি সাহেববাজার জিরো পয়েন্টের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন আলুপট্টি মোড়ের কাছে স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় অনেকে আহত হন এবং কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। মারুফ জানান, তাঁরা কিছুক্ষণের জন্য পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন, কিন্তু পরে সংগঠিত হয়ে আবার মিছিল শুরু করেন। এরপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশ তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে সম্মিলিতভাবে হামলা করে।
সেই সময় একটি গুলি তাঁর ডান হাতের কবজির উপর লাগে। তিনি এখনো এই আঘাতের চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ডান হাতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। মারুফ এই ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস, মাইনুল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ, রাজশাহীর রুবেল ও রোজেলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।।
এক রাতের নৃশংস হত্যা: জবানবন্দিতে মেজর সাজ্জাদুলের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি